প্রকাশিত: Tue, Dec 12, 2023 8:43 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 4:53 AM

বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর

আরিফ রহমান : বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশিত হবার পর ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকার কার্তিক (১৩২৯) সংখ্যায় মুনশী মোহাম্মদ রেয়াজুদ্দিন আহমদ বিদ্রোহি এবং নজরুলের যুগপৎ সমালোচনা করে একটি প্রবন্ধ লেখেন, যার শিরোনাম ছিলো ‘লোকটি মুসলমান না শয়তান’। নজরুলের সুবৃহৎ জীবনীকারক গোলাম মুরশিদ জানাচ্ছেন ওই প্রবন্ধে লেখক নজরুল ইসলামকে ‘নরাধম’, ‘খোদাদ্রোহী’, ‘নাস্তিক’, ‘শয়তানের পূর্ণাবতার’, ‘ফেরাউন’ এবং ‘নমরুদ’ বলে অভিহিত করেছেন। লেখার উপসংহারে তিনি লিখেছেন, ‘খোদাদ্রোহী এই নরাধম নাস্তিকদিগকেও পরাজিত করিয়াছে। লোকটা শয়তানের পূর্ণাবতার। ইহার কথা আলোচনা করিতেও ঘৃণা বোধ হয়। একটা ধর্মজ্ঞানশূন্য বুনো বর্বরের নিকট, একটা অকাট মূর্খের নিকট আর কী আশা করা যাইতে পারে?

এইরূপ ধর্মদ্রোহী কুবিশ্বাসীকে মুসলমান বলিয়া গ্রহণ করা যাইতে পারে না। এ পুনর্জন্ম-বিশ্বাসী কাফের বলিয়াই পরিগণিত হইবে। দুঃখের বিষয় একদল ধর্মজ্ঞানশূন্য মুসলমান ‘ধূমকেতু’র এই সকল শয়তানী ও পৈশাচিক উক্তি পাঠ করিয়া লেখককে বাহবা দিয়া তাহার মাথাটা বিষম বিগড়াইয়া দিয়াছে। খাঁটি ইসলামী আমলদারী থাকিলে এই ফেরাউন বা নমরুদকে শূলবিদ্ধ করা হইতো বা উহার মুণ্ডপাত করা হইতো নিশ্চয়।’ প্রায় একই কথা লিখেছেন পত্রিকার সম্পাদক আবদুল হাকিম। তিনিও বিশেষণগুলো এক রেখেছেন, তবে তা লিখেছেন কবিতার ভাষায়, ‘বিদ্রোহী’র প্যারডি হিসেবে, ‘ওগো বীর/অসংযত বিদ্রোহী অধীর/সংযত হয়ে নমিত কর তব গর্বিত উন্নত শির’। গোলাম মুরশিদ বলছেন, ‘এ পর্যন্ত ভাষায় একধরনের ভব্যতা থাকলেও এই প্যারডিতে পরে সেই ছদ্মবেশটুকুও খসে পড়ে। তুমি বেল্লিক বেঈমান, তুমি নমরুদ, তুমি ফেরাউন, তুমি খোদাদ্রোহী শয়তান, বিদ্রোহী বেঈমান, ভ্রাতৃদোহী বিভীষণ, কুলবধূর বস্ত্রাপহারী-দুর্মতি দুঃশাসন’, ইত্যাদি অনুবাক্য থেকে সমালোচনা, বরং বলি, গালাগালির তীব্রতা এবং রূঢ়তা উপলব্ধি করা যায়।  কিন্তু নিন্দা-প্রশংসার ঝড় উঠলেও, নজরুল নিজে অবিচল থাকেন। কারণ এ কবিতার মাধ্যমে তিনি নিজের শক্তি এবং সম্ভাবনাকেই আবিষ্কার করেননি; তিনি নিজের পথও চিনে নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি।’ লেখক: গবেষক। ফেসবুকে ১২-১২-২৩ প্রকাশিত হয়েছে।